শামসুল হক
অতৃপ্তি আর আক্ষেপ নিশ্চয়ই ছিল নাসির জামশেদের। জীবনের প্রথম ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেই দারুণ খেলে ছুঁয়েছিলেন ফিফটি। এর পরই কিনা মাঠ ছাড়তে হলো চোট নিয়ে!
কাল ভারতের বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে পাওয়া সেঞ্চুরি দূর করে থাকবে নাসির জামশেদের সেই আক্ষেপ। হতাশা ঘুচেছে হয়েতো মোহাম্মদ হাফিজেরও। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে কালকের আগে তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন। এর মধ্যে দুবারই শুরুটা ছিল দারুণ—৪২ ও ৪৩। কাল আর মাঝপথে থেমে যাননি, তুলে নিয়েছেন ভারতের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি। কিন্তু জামশেদ-হাফিজ কি আসলেই খুশি হতে পারলেন সেঞ্চুরি করে? বিরাট কোহলির সেঞ্চুরিতে এই দুই সেঞ্চুরিয়ানের কৃতিত্বই তো মাটি হয়ে গেল!
জামশেদের ওই ম্যাচটিও ছিল এশিয়া কাপে, ২০০৮ সালে। কালকের মতো সেদিন করাচিতেও প্রথমে ব্যাট করা দল ছাড়িয়েছিল ৩০০। তবে পাকিস্তান নয়, ভারত। ইউনুস খানের সেঞ্চুরিতে ভারতের ৩০৮ রান অনায়াসেই পেরিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। শুরুতে ৪৩ বলে ৫৩ করে দারুণ জয়ের ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছিলেন জামশেদ। হয়তো জয়ের নায়কও হতে পারতেন, যদি না দ্রুত ১ রান নিতে গিয়ে পায়ের মাংসপেশিতে টান পড়ত। প্রায় চার বছর ধরে পুষে রাখা আক্ষেপ কাল ঘোচালেন বাঁহাতি ওপেনার। তুলে নিলেন প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। কিন্তু কী লাভ হলো তাতে?
মোহাম্মদ হাফিজের ওয়ানডে সেঞ্চুরি আগেও ছিল তিনটি। তবে ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সামর্থ্য আর টেম্পারামেন্টের চূড়ান্ত পরীক্ষা হয় এই দুই দলের ম্যাচেই। এই দুই দেশের ক্রিকেটারদের জন্য এর চেয়ে চাপের ম্যাচ আর নেই। কিন্তু সেই চাপ কাল উতরে গিয়েও কী পেলেন হাফিজ? দলকে জেতাতে না-পারা এক সেঞ্চুরিই তো!
তিন সেঞ্চুরির দিনে এই দুই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিকে পেছনে ফেলে দিল বিরাট কোহলির ১৮৩। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা আগের তিন ম্যাচে করেছিলেন ১৬, ১৮ এবং ৯। কাল ও রকম অতিমানবীয় ইনিংসটা খেলার পর কে মনে রাখবে এই অতীত! কোহলি বরং বলতে পারেন, পাকিস্তানের ভাগ্য ভালো, আগের তিন ম্যাচের কোনোটাই হয়নি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। এই মাঠে কোহলির অতিমানব হয়ে ওঠাটাই যেন স্বাভাবিক। কালকেরটিসহ ঢাকায় এ মাঠে মোট নয়টি ম্যাচ খেললেন, সেঞ্চুরি যার চারটিতেই! চলতি এশিয়া কাপেই দুটি। এ ছাড়া আছে ৯১, অপরাজিত ৭১ আর ৬৬ রানের তিনটি ইনিংস। ৯ ম্যাচে ১২২ গড়ে ৭৩২ রান, শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে যেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চেয়েও অনেক ভালো চেনেন কোহলি।
ঢাকার মাঠকে ভালো চেনার দাবি করতে পারেন নাসির জামশেদও। তিন বছর ধরে ঢাকার ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন। সদ্য সমাপ্ত বিপিএলেও শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে বানিয়েছিলেন নিজের মাঠ। কিন্তু কোহলির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে গেলেন শেষ পর্যন্ত। সেঞ্চুরি করেও হাফিজের সঙ্গে মন খারাপ করে ফিরেছেন হোটেলে।
তার আগে অবশ্য এই দুই ব্যাটসম্যানই পাকিস্তান দলকে এনে দিয়েছেন একটি ‘প্রথম’। এই প্রথম চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ২০০ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়তে পারল পাকিস্তান। আগের সর্বোচ্চ ১৪৪ ছিল পাকিস্তানের সফলতম ওয়ানডে জুটি সাঈদ আনোয়ার ও আমির সোহেলের, ১৯৯৬ সালে সিঙ্গাপুরে। হাফিজ-জামশেদের ২২৪ রানের জুটি অল্পের জন্য ছুঁতে পারেনি আরও দুটি রেকর্ড। ভারতের বিপক্ষে যেকোনো উইকেট-জুটিতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান ২৩০, ১৯৯৮ সালে ইনডিপেনডেন্স কাপের স্মরণীয় সেই ফাইনালে সাঈদ আনোয়ার ও ইজাজ আহমেদের। আর উদ্বোধনী জুটিতে যেকোনো দেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ২২৮। এই রেকর্ড না ছুঁতে পারায় অবশ্য হাফিজের খুব বেশি আক্ষেপ না-ও থাকতে পারে। গত সেপ্টেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই রেকর্ড-জুটির অংশীদার যে তিনিও! সঙ্গে ছিলেন ইমরান ফারহাত।
কিন্তু অমন ইনিংস খেলেও কোহলি রেকর্ডের খাতায় দাগ কাটবেন না, তা কী করে হয়! তাঁর ১৮৩ রানের ইনিংসটি ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে যেকোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এত দিন গর্বটি ছিল ব্রায়ান লারার, ২০০৫ সালে অ্যাডিলেডে তিনি করেছিলেন ১৫৬ রান।
No comments:
Post a Comment